03/05/2026
ভ্যাট সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা আমাদের সবার থাকা প্রয়োজন। জাহিদের আসবাবপত্রের দোকানের এই সাধারণ উদাহরণটি থেকে সহজেই বুঝে নিন ভ্যাট কীভাবে কাজ করে এবং এটি কীভাবে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। সচেতন ক্রেতা হিসেবে পণ্য কেনার সময় রশিদ বুঝে নিন এবং দেশের সমৃদ্ধিতে অংশ নিন। 📈🇧🇩
#সচেতন_নাগরিক
10/08/2024
বিষয়: রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংস্কারের অংশ হিসেবে ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য প্রস্তাবিত ৬-দফা কর্মসূচী।
সম্মানিত পাঠক
আমার ছালাম ও শুভেচ্ছা নিন।
রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংস্কারের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কার। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য নিম্নে ৬-দফা সংস্কার কর্মসূচী প্রস্তাব করা হলো:
(১) ইনভয়েস অটোমেশন: ক্রয়-বিক্রয়ের সকল ইনভয়েস/চালানপত্র/রসিদ অটোমেটেড পদ্ধতিতে ইস্যু করার প্রস্তাব করছি। ফলে, ব্যবসায়ের হিসাবপত্র বিকৃত করা কঠিন হবে, ভ্যাট ফাঁকি বন্ধ হবে, তথ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক হবে, ইন-শা-আল্লাহ।
(২) হিসাব রাখা সহজীকারণ: বর্তমানে ভ্যাটের জন্য ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদি হিসাব আলাদা রাখতে হয় যা প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র ভ্যাট চালানপত্র আলাদা ইস্যু করা যায়। ভ্যাটের অন্যান্য রেজিষ্টার বাতিল করে আর্থিক বিবরণী সংশ্লিষ্ট জার্নাল, লেজার ইত্যাদিকে হিসাবের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করছি। তাহলে হিসাবপত্রে শৃঙ্খলা আসবে; ভ্যাট, আয়কর ফাঁকি রোধ হবে; তথ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক হবে, ইন-শা-আল্লাহ।
(৩) অনলাইনে ক্যাশলেস পেমেন্টের ক্ষেত্রে পেমেন্টের সময় ভ্যাট কেটে রাখার প্রস্তাব করছি।
(৪) ভ্যাট আইন সহজীকরণ: ভ্যাট আইন, বিধি, এসআরও ইত্যাদি জনগণের জন্য বোধগম্য করে সহজ ভাষায় পুনঃলিখন করার প্রস্তাব করছি। দূর্বোধ্য ভাষায় প্রণীত আইন অনিয়ম, দুর্নীতির সৃষ্টি করে।
(৫) দুর্নীতি দমন: ভ্যাট ব্যবস্থাপনা থেকে দুর্নীতি দমন/নির্মূল করার লক্ষ্যে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক, পারফম্যান্স ভিত্তিক ইনসেনটিভসহ অভ্যন্তরীণ সৎ অফিসারদের নিয়ে দুর্নীতি দমন ইউনিট গঠন করার প্রস্তাব করছি।
(৬) ২৫ (পঁচিশ) হাজার ভ্যাট প্রফেশনাল তৈরি: ভ্যাট সকলের বিষয় নয়। সকলকে ভ্যাট শেখানোর প্রয়োজন নেই। ভালো ভ্যাট জানা ২৫ (পঁচিশ) হাজার ভ্যাট প্রফেশনাল তৈরি করার প্রস্তাব করছি। তাঁরা দেশের ভ্যাট সিস্টেম পরিচালনা করবেন।
আসুন আমরা বিদেশী ঋণকে “না” বলি। ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কার করে দেশের জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব আহরণ করি। অনিয়ম, দুর্নীতি, হয়রানিমুক্ত, ন্যায্য, বৈষম্যহীন ভ্যাট ব্যবস্থা গড়ে তুলি, ইন-শা-আল্লাহ।
ভ্যাট ব্যবস্থা সংস্কারে ৬-দফা কর্মসুচীর পক্ষে জনমত গড়ে তুলুন।
ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা
ড. মোঃ আব্দুর রউফ
ভ্যাট বিশেষজ্ঞ।
১০ আগস্ট, ২০২৪
08/08/2024
ভ্যাট টিপস-১২৯/২০২৪:
বিষয়: ডাল ক্রয়ের বিল পরিশোধ করার সময় উৎসে ভ্যাট কর্তন করতে হবে কি না।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহএকজন জানতে চেয়েছেন যে, ডাল ক্রয়ের বিল পরিশোধ করার ক্ষেত্রে উৎসে ভ্যাট কর্তন (ভিডিএস) করতে হবে কি না। ভ্যাট আইনের প্রথম তফসিল দ্বারা ০৭.১৩ হেডিং এর অধীন ১০টি এইসএস কোডের আওতাভুক্ত পণ্যকে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তন্মধ্যে এইচএস কোড ০৭১৩.২০.৯০ হলো ছোলার ডাল, ০৭১৩.৩১.৯০ হলো মুগ ডাল, ০৭১৩.৪০.৯০ হলো মসুর ডাল। .৯০ এর স্থলে .১০ হলে সেগুলো ২.৫ কেজি পর্যন্ত মোড়কজাত বা টিনজাত। তাই, এইচএস কোডের শেষে .১০ থাকলে সেগুলো প্রথম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত নেই। অর্থাৎ ডাল ২.৫ কেজি পর্যন্ত মোড়কজাত বা টিনজাত হলে ভ্যাট প্রযোজ্য হবে। আর এইচএস কোডের শেষে .৯০ থাকলে সেগুলো হলো এর বাইরে। অর্থাৎ ২০.৯০, ৩১.৯০, ৪০.৯০ এর আওতাভুক্ত লুজ মসুরির ডাল, ছোলার ডাল ও মুগডাল এবং ২.৫ কিজির ওপরে প্যাকেটজাত বা টিনজাত মসুরি, ছোলা ও মুগডাল বা বস্তাভর্তি এসব ডাল ভ্যাট আইনের প্রথম তফসিল দ্বারা ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত। তাছাড়া, আরো অনেক ডাল রয়েছে যা এই এইচএস কোডসমূহের আওতায় শ্রেণীবিন্যাসিত হবে, যেমন: মটর ডাল, মাষকলাই ডাল, বিউলির ডাল, রাজমা ডাল, অড়হর ডাল, খেসারির ডাল ইত্যাদি। অর্থাৎ অধিকাংশ ডাল বিশেষ করে যে ডালগুলো মূলত আমরা ব্যবহার করি সে ডালগুলো ভ্যাট আইনের প্রথম তফসিলের এই কোডগুলোর আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তাই, ডালের ওপর কোনো পর্যায়ে ভ্যাট প্রযোজ্য হবে না। আমদানি, উৎপাদন, ট্রেডিং, যোগানদার সকল স্তরে ডাল ভ্যাটমুক্ত হবে। উক্ত এইচএস কোডভুক্ত ডাল টেন্ডারের বিপরীতে ক্রয় করার ক্ষেত্রে বিল পরিশোধ করার সময় উৎসে ভ্যাট কর্তন করতে হবে না। তবে, উক্ত ডাল যদি ২.৫ কেজি পর্যন্ত মোড়কজাত বা টিনজাত হয় তাহলে ভ্যাট প্রযোজ্য হবে।
ধন্যবাদ ও শুভ কামনা।
ড. মোঃ আব্দুর রউফ
০৮.০৮.২০২৪
17/07/2024
বিসিএসে কোটার বিন্যাসঃ
----------------------------------
মুক্তিযোদ্ধার কোটাঃ ৩০%
নারী কোটাঃ ১০%
জেলা কোটাঃ ১০%
উপজাতি কোটা ৫%
প্রতিবন্ধি কোটা ১%
-----------------------------
মোটঃ ৫৬% কোটা মাত্র
১ম ও ২য় শ্রেণী নন ক্যাডার
জবে কোটার বিন্যাসঃ
----------------------
মুক্তিযোদ্ধার কোটাঃ ৩০%
নারী কোটাঃ ১৫%
জেলা কোটাঃ ১০%
উপজাতি কোটা ৫%
প্রতিবন্ধি কোটা ১%
-----------------------------
মোটঃ ৬১% কোটা মাত্র
** ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর জবে কোটা ৭০%
** রেলওয়েতে কোটা ৮২%
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে কোটার বিন্যাসঃ
-----------------------------
নারী কোটা ৬০%
মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০%
পোষ্য কোটা ৫%
প্রতিবন্ধি কোটা ১%
------------------------
মোটঃ ৯৬% কোটা মাত্র
ছাএরা কেন পাগল হয়ে গিয়েছে। বুজে নেন।
©️
09/06/2024
এবারের বাজেটে ভ্যাট ব্যবস্থায় সংশোধন, পরিবর্তন-১: এবারের বাজেটে প্রস্তাবিত অর্থ আইন এবং ভ্যাট সংক্রান্ত এসআরও-এর মাধ্যমে আমাদের দেশের ভ্যাট ব্যবস্থায় বেশ কিছু সংশোধন, পরিবর্তন করা হয়েছে। এই সংশোধন, পরিবর্তনগুলো সহজ করে পাঠকদের বোঝানোর জন্য সেগুলোর ওপর আমরা আলোচনা করবো, ইন-শা-আল্লাহ। প্রস্তাবিত অর্থ আইনের মাধ্যমে ভ্যাট আইনে সংশোধন করা হয়েছে। এসআরও-এর মাধ্যমে ভ্যাট বিধিমালায় সংশোধন করা হয়েছে। অনেকগুলো নতুন এসআরও জারি করা হয়েছে। প্রথমেই প্রশ্ন আসে যে, কোন বিষয় কোন তারিখ থেকে কার্যকর হবে? এ বিষয়টি স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। অর্থ আইনের শেষে ঘোষণা অংশে উল্লেখ থাকে যে, অর্থ আইনের কোন কোন অংশ কবে থেকে কার্যকর হবে। সে অনুসারে অর্থ আইন, ২০২৪ এর দফা ১২ এবং ১৩ অর্থাৎ সম্পূরক শুল্ক সংক্রান্ত পরিবর্তন এবং ভ্যাট হার সংক্রান্ত পরিবর্তন ৬ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। অর্থ আইনে প্রস্তাবিত ভ্যাট আইনে সংশোধন সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়গুলো ১ জুলাই ২০২৪ তারিখ থেকে কার্যকর হবে। এসআরও কবে থেকে কার্যকর হবে তা এসআরও-এর নিচে লেখা আছে। অধিকাংশ এসআরও ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে কার্যকর হবে। তবে, কয়েকটা এসআরও ৬ জুন থেকে কার্যকর হবে। যে এসআরও-এর মাধ্যমে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, আগাম কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে, ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, এমআরপি বাড়ানো হয়েছে, সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে সে এসআরও ৬ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। ধন্যবাদ এবং শুভ কামনা। ড. মোঃ আব্দুর রউফ ০৯.০৬.২০২৪
07/05/2024
ভ্যাট টিপস-০০২/২০২৪
বিষয়: ভ্যাট দেবেন ক্রেতা বা ভোক্তা।
ভ্যাট হলো ভোক্তা কর। পণ্য বা সেবার ক্রেতা বা ভোক্তা ভ্যাট প্রদান করবেন। অর্থাৎ বিক্রেতাকে ভ্যাট প্রদান করতে হবে না। বিক্রেতার দায়িত্ব হলো, ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট নিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া। যখন ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হয়, তখন ক্রেতার কাছে থেকে ভ্যাট সংগ্রহ করার মতো কোনো ব্যবস্থা সরকারের নেই। তাই, সরকার বিক্রেতার ওপর দায়িত্ব দিয়েছে যে, ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট নিয়ে বিক্রেতাকে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। প্রযুক্তির উন্নতীর সাথে সাথে এমন ব্যবস্থা হয়তো থাকবে না। একদিন এমন সময় আসবে যখন ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সাথে সাথে সরকার ক্রেতার কাছ থেকে সরাসরি ভ্যাট অনলাইনে নিয়ে নিতে পারবে।
আমাদের দেশে একটা সমস্যা হলো, বিক্রেতাগণ অনেক ক্ষেত্রে বলেন যে, সব ক্রেতা ভ্যাট দেন না। আমি মূল্যের সাথে ভ্যাট যোগ করলে আমার মূল্য বেড়ে যায়। তখন কাস্টমার আমার পণ্য/সেবা ক্রয় করবেন না ইত্যাদি। একথা সঠিক। তবে, এরপরও কথা থাকে। সবাই এই কথা বলে যদি ভ্যাট না দেন তাহলে কি অবস্থা দাঁড়াবে। ক্রেতাদেরও একটা টেনডেনসি আছে। সেটা হলো, ক্রেতাগণ যেখান থেকে ক্রয় করেন, তাঁরা সাধারণত সেখান থেকে ক্রয় করায় পছন্দ করেন। সাধারণত ক্রেতাগণ স্থান পরিবর্তন করেন না। আপনি ক্রেতাকে ভালো সেবা দিলে ক্রেতা কয়েক টাকা ভ্যাটের জন্য অন্যত্র চলে যাবেন না। আবার, একথাও সঠিক যে, অনেক ক্রেতা আছেন যাঁরা ভ্যাট দেয়া পছন্দ করেন। তারা নিশ্চিত হতে চান যে, বিক্রেতা ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দেন কিনা। আপনি ক্রেতাকে ভ্যাট চালানপত্র দেন এবং ক্রেতার জন্য এমন কিছু করেন বা বলেন যেন তিনি নিশ্চিত হন যে, আপনি সরকারি কোষাগারে ভ্যাট জমা দেবেন। তাছাড়া, আপনি যদি উপকরণ কর রেয়াত নেন, আর ১৫% ভ্যাট দেন তাহলে ক্রেতার ওপর ভ্যাটের ভার বেশি পড়ে না, ১/২/৩ পারসেন্ট পড়ে মাত্র। অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যাঁরা সঠিকভাবে ভ্যাট পরিশোধ করে ভালো ব্যবসা করছে, আলহামদুলিল্লাহ। এটাও প্রমাণ করে যে, সঠিকভাবে ভ্যাট পরিশোধ করে ব্যবসা করা যায়।
ভ্যাট দেবো, এই মানসিকতা নিয়ে কাজ করলে, চিন্তা করলে দেখবেন ভ্যাট দেয়া সহজ হয়ে যাবে, ইন-শা-আল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেকমত দান করুন। আমিন।
ধন্যবাদ এবং শুভ কামনা।
ড. মোঃ আব্দুর রউফ
ভ্যাট বিশেষজ্ঞ।
০৪.০১.২০২৪