একটি সুখবর!
অকার্যকর টিন (TIN) বাতিলে শীঘ্রই ‘ক্লিনজিং অপারেশন’ শুরু করবে NBR। যেসব ব্যক্তি করযোগ্য আয় না থাকা সত্ত্বেও TIN নিয়েছেন কিম্বা দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় রয়েছেন তাদের TIN বাতিল/ডিরেজিস্ট্রেশন করা হবে।
Sylhet Tax & Vat Solution
We offer Vat & Tax services.
Vat & Tax services can be anything from tax return preparation only to full service Vat & Tax preparation, Vat & Tax planning, guidance and consultations throughout the year.
30/04/2026
সম্মানিত করদাতাদের বিভিন্ন প্রয়োজন (যেমন— লেখাপড়ার জন্য বিদেশগমন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, কর নির্ধারণী আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ইত্যাদি) বা কাজে আয়কর রিটার্ন বা সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টস-এর সার্টিফাইড কপি বা জাবেদা নকল দরকার পড়ে।
আজ আমরা জানব— এই সার্টিফাইড কপি বা জাবেদা নকল কীভাবে তুলবেন?
🔰 আবেদন করার নিয়ম কী?
📘 সার্টিফাইড কপি তোলার জন্য আপনাকে সাদা কাগজে একটি লিখিত আবেদন করতে হবে। এর জন্য আলাদা কোনো সরকারি ফর্ম নেই। হাতে লিখে বা কম্পোজ করে এই আবেদন দিতে পারবেন।
আবেদনটি আপনার কর সার্কেলের উপকর কমিশনার (Deputy Commissioner of Taxes - DCT) বরাবর লিখতে হবে।
🔰 বিষয় হিসেবে কী লিখবেন?
📘 একটা নমুনা দেখুন— ‘২০২৪-২০২৫ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন, অ্যাসেসমেন্ট অর্ডার এবং ইস্যুকৃত সকল নোটিশের সার্টিফাইড কপি বা নকল পাওয়ার আবেদন।’
দরখাস্তের ভেতরে আপনার নাম, ই-টিআইএন (e-TIN), করবর্ষ এবং যে প্রয়োজনে সার্টিফাইড কপি দরকার—তা সংক্ষেপে উল্লেখ করে সার্টিফাইড কপিগুলো সরবরাহের অনুরোধ করবেন।
🔰কত টাকার কোর্ট ফি লাগে?
📘 নিয়মানুযায়ী সরকারি দপ্তরে দাপ্তরিক আবেদনের ক্ষেত্রে দরখাস্তের ওপর ২০ (বিশ) টাকার কোর্ট ফি (Court fee stamp) সংযুক্ত করতে হয়। কোর্ট ফি আপনি আদালত প্রাঙ্গণ, ডাকঘর বা যেকোনো স্ট্যাম্প ভেন্ডরের কাছে পাবেন। এটি কিনে আঠা দিয়ে দরখাস্তের ওপরের ডান কোণায় লাগিয়ে দেবেন।
🔰কত টাকার কপিং ফি লাগে?
📘 আয়কর রিটার্ন বা অন্যান্য দলিলের সার্টিফাইড কপির জন্য সুনির্দিষ্ট পৃষ্ঠাপ্রতি কোনো একদর ফি আয়কর আইনে সরাসরি উল্লেখ করা নেই। এর ফি মূলত দেওয়ানি আদালতের ফোলিও (শব্দ গণনা) নিয়মে নির্ধারিত হয়।
আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ এর বিধি-৬৯ (Rule 69: Fees for copies of orders, petitions, etc.)। নতুন আয়কর আইন, ২০২৩-এর অধীনে নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত এই বিধিটিই এখনো অনুসরণ করা হয়। এই বিধিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: "Fees for copies of orders, petitions, returns and other documents shall be the same as those chargeable under the Court Fees Act, 1870..." অর্থাৎ, আয়করের দলিলের সার্টিফাইড কপির ফি কোর্ট ফিস অ্যাক্ট, ১৮৭০ অনুযায়ী দেওয়ানী আদালতে সমজাতীয় দলিলের সার্টিফাইড কপির জন্য প্রযোজ্য ফির সমান হবে।
দেওয়ানি আদালতের নিয়ম অনুযায়ী কপিং ফি "পৃষ্ঠা" হিসেবে নয়, বরং "ফোলিও" (Folio) হিসেবে হিসাব করা হয়। সাধারণত প্রতি ১৫০ থেকে ৩০০ শব্দকে একটি ফোলিও ধরা হয়।
এখানে মূলত দুটি ফি থাকে: 'এন ফি' (N-Fee বা অনুলিপি লেখার ফি) এবং 'ই ফি' (E-Fee বা এক্সামিনেশন/পরীক্ষণ ফি)।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৩০০ শব্দ বা তার অংশের জন্য (প্রতি ফোলিও/পৃষ্ঠা) সাধারণত ১৬ থেকে ২৪ টাকার মতো ফি আসে। এর সাথে সামান্য কিছু আনুষঙ্গিক ফি যোগ হতে পারে।
🔰 তবে বাস্তব প্রয়োগ কেমন হয় জেনে নিন—
📘 ট্যাক্স অফিসে সাধারণত প্রতিটি শব্দ গুনে ফি হিসাব করা হয় না। আপনি যখন আবেদন জমা দেবেন, তখন সার্কেলের প্রধান সহকারী (Head Clerk) আপনার রিটার্ন ও নোটিশগুলোর মোট পৃষ্ঠা এবং শব্দের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে একটি আনুমানিক ও যৌক্তিক 'কপিং ফি' (যেমন- ১০০, ১৫০ বা ২০০ টাকা) নির্ধারণ করে দেবেন। আপনাকে সেই পরিমাণ টাকাই চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
🔰 কপিং ফি কীভাবে জমা দেবেন?
📘কপিং ফি এ-চালান (A-Challan) সিস্টেমের মাধ্যমে অনলাইনে ঘরে বসে বা যেকোনো ব্যাংকে জমা দিতে পারবেন।
আয়কর জমা দেওয়ার সময় আপনার সার্কেলের জন্য যে মূল অর্থনৈতিক কোড ব্যবহার করেন (যেমন: ব্যক্তি করদাতার কোড), সেই কোডেই জমা হবে। তবে জমার ধরন বা খাত হিসেবে মূল করের বদলে "অন্যান্য প্রাপ্তি" (Other Receipts) বা "অন্যান্য ফি" নির্বাচন করতে হবে।
🔰 সার্টিফাইড কপি কে তুলতে পারবেন?
📘 আয়কর রিটার্ন বা কর নথির তথ্য সম্পূর্ণ গোপনীয় (Confidential)। তাই আপনার ব্যক্তিগত এসব নথি যে কারো হাতে দেওয়া হবে না। আপনি নিজে গিয়ে এই সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করতে পারেন। তবে আপনার পক্ষে আপনার নিযুক্ত কোনো আইনজীবী (আইটিপি বা অ্যাডভোকেট) বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিও এই কপি তুলতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনার আইনজীবীকে তার 'ওকালতনামা' অথবা আপনার স্বাক্ষর করা একটি 'অথরাইজেশন লেটার' (Authorization Letter) বা ক্ষমতাপত্র আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে। যথাযথ ক্ষমতাপত্র ছাড়া তৃতীয় কোনো ব্যক্তির হাতে ট্যাক্স অফিস কখনোই আপনার দলিলের সার্টিফাইড কপি হস্তান্তর করবে না।
🔰 কত দিনের মধ্যে হাতে পাবেন?
📘 আবেদন জমা দেওয়ার পর কত দিনে কপিটি হাতে পাবেন, তার একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) 'সিটিজেনস চার্টার'-এ উল্লেখ করা আছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি ও কপিং ফি পরিশোধ করে আবেদন জমা দেওয়ার পর সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) কার্যদিবসের মধ্যে করদাতাকে এই সার্টিফাইড কপি বা জাবেদা নকল সরবরাহ করতে হবে। তবে ট্যাক্স অফিস সাধারণত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটা প্রদান করে থাকে।
মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী
আয়কর আইনজীবি
01711-461633
30/04/2026
NBR এইবার ৭২,৩৪১ জনের TIN অডিটের জন্য সিলেক্ট করেছে।
আপনারটা সেই লিস্টে আছে কিনা, ৫ সেকেন্ডে চেক করতে পারবেন।
লিস্টটা তারা এক্সেল ফাইলে দিয়েছে। ফাইলটা এত বড় যে খুলতেই ল্যাপটপ হ্যাং, নিজের TIN খুঁজে বের করা তো আরও বড় ঝামেলা।
তাই একটা ছোট্ট মাইক্রো সাইট :
👉 https://audit-checker.asif.dev/
Alternate URL - https://check-tin.asif.dev/
৩ মিনিটে বানানো! 😄 TIN লিখলেই সাথে সাথে রেজাল্ট পাবেন।
রিটার্ন জমা দিলে অডিট এর ঝুঁকি আর না দিলে নোটিশ, জরিমানা, বাড়তি করের ঝুঁকি! দুটোতেই ঝুঁকি, কিন্তুু রিটার্ন না দিয়ে তো উপায় নেই। তাই আইন মানতে হবে, নির্ভুল রিটার্ন জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে What's App No: 01711-461633
30/04/2026
একক হার কে আমরা সাধুবাদ জানাই, এবং ভ্যাট একক হারেই হওয়ার কথা।
তবে এই ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে অবশ্যই
১. ইনভয়েস অটোমেশন করতে হবে।
২. ধারা ৪৬ অনুযায়ী রেয়াত গ্রহন এর শর্ত সমূহ বাস্তব সম্মত হতে হবে।
৩. সহগ ঘোষণা সংক্রান্ত বিষয়ে আরো সুস্পষ্ট করতে হবে।
অন্যথায় মূল্য বৃদ্ধি পাবে, মামলার পরিমাণ বাড়বে, করদাতা জিম্মি হয়ে যাবে।
ধন্যবাদান্তে,
মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী
কর আইনজীবী, Sylhet Taxes Bar Association,
বি কম অনার্স (একাউন্টিং), এম কম, এমবিএ
Income Tax Advisor, Sylhet Tax & Vat Solution ,Sylhet
পারকুইজিট (Perquisite) কী? কেন গুরুত্বপূর্ণ? আয়কর আইনের আলোকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ!
🔍 পারকুইজিট (Perquisite) কী?
পারকুইজিট বলতে বুঝায়—নিয়োগকর্তা কর্তৃক কর্মচারীকে বেতন ছাড়াও যে অতিরিক্ত সুবিধা, ভাতা বা সুবিধাসমূহ প্রদান করা হয়, যা সরাসরি নগদ না হলেও আর্থিক সুবিধা সৃষ্টি করে।
👉 সহজভাবে: Salary + Extra সুবিধা = Taxable Income (যেখানে পারকুইজিট একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ)
📖 আইনি ভিত্তি:
বাংলাদেশের আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী পারকুইজিট “Income from Employment” এর অন্তর্ভুক্ত এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে করযোগ্য।
🎯 পারকুইজিট কেন গুরুত্বপূর্ণ?
১. কর নির্ধারণে প্রভাব ফেলে
👉 অনেকেই শুধু বেসিক স্যালারি হিসাব করেন, কিন্তু পারকুইজিট যুক্ত হলে করযোগ্য আয় বেড়ে যায়।
২. ট্যাক্স প্ল্যানিংয়ে ভূমিকা রাখে
👉 সঠিকভাবে পারকুইজিট স্ট্রাকচার করলে কর সাশ্রয় সম্ভব।
৩. অডিট ও নোটিশ এড়াতে সাহায্য করে
👉 ভুলভাবে পারকুইজিট গোপন করলে জরিমানা ও শাস্তির ঝুঁকি থাকে।
৪. কর্মচারীর প্রকৃত আয়ের চিত্র তুলে ধরে।
👉 শুধু নগদ বেতন নয়, মোট সুবিধা বোঝা যায়।
💼 পারকুইজিটের সাধারণ উদাহরণ (বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে):
✔️ কোম্পানির গাড়ি ব্যবহার
✔️ বাসা ভাড়া বা Accommodation সুবিধা
✔️ মেডিকেল সুবিধা
✔️ ক্লাব মেম্বারশিপ
✔️ ফ্রি বা সাবসিডাইজড খাবার
✔️ ড্রাইভার/সার্ভেন্ট সুবিধা
✔️ শিক্ষা সহায়তা (Children Education সুবিধা)
✔️ ইন্টারেস্ট-ফ্রি বা কম সুদের ঋণ।
⚖️ আইন অনুযায়ী করযোগ্য পারকুইজিট (সংক্ষেপে):
📌 আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী—
কিছু পারকুইজিট সম্পূর্ণ করযোগ্য
কিছু নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত করমুক্ত
কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে মূল্যায়ন (Valuation Rules) করা হয়
👉 যেমন:
বাসা সুবিধা → নির্দিষ্ট শতাংশ হিসেবে গণনা
গাড়ি সুবিধা → নির্ধারিত ভ্যালু অনুযায়ী
ঋণ সুবিধা → সুদের পার্থক্য হিসাব করা হয়
💡 পারকুইজিটের সুবিধা (Advantages):
১. কর্মচারীর জীবনমান উন্নত করে
👉 কম খরচে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়
২. কোম্পানির জন্য ট্যালেন্ট ধরে রাখা সহজ হয়
👉 Attractive compensation package তৈরি করা যায়
৩. ট্যাক্স অপ্টিমাইজেশন সম্ভব
👉 কিছু পারকুইজিট কম করযোগ্য হওয়ায় ট্যাক্স কমানো যায়
৪. নগদ খরচ কমে
👉 Cash salary কম হলেও মোট সুবিধা বেশি হয়
⚠️ সতর্কতা (Compliance Issues):
❗ পারকুইজিট গোপন করলে
➡️ জরিমানা
➡️ অতিরিক্ত কর
➡️ অডিট ঝুঁকি
❗ ভুল ভ্যালুয়েশন করলে
➡️ Tax reassessment হতে পারে
📊 প্র্যাকটিক্যাল টিপস:
✔️ Salary Structure তৈরি করার সময় পারকুইজিট অন্তর্ভুক্ত করুন
✔️ একজন কর আইনজীবী/Income Tax Practitioner এর পরামর্শ নিন
✔️ সব সুবিধা রিটার্নে সঠিকভাবে দেখান
✔️ প্রযোজ্য exemption ও limit জানুন।
🧾 শেষ কথা:
পারকুইজিট শুধু একটি “extra benefit” নয়—এটি আয়কর হিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিকভাবে বুঝে ব্যবহার করলে কর কমানো সম্ভব, আর অবহেলা করলে ঝুঁকিও কম নয়।
📢 সচেতন হোন, ঝামেলা এড়ান।
ধন্যবাদান্তে,
মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী
কর আইনজীবী, Sylhet Taxes Bar Association,
বি কম অনার্স (একাউন্টিং), এম কম, এমবিএ
Income Tax Advisor, Sylhet Tax & Vat Solution ,Sylhet
যাদের ট্যাক্স রিটার্ন অডিটে পড়েছে তাদের প্রত্যেকের আতঙ্কিত বা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। যাদের রিটার্নে আয় গোপন বা কর ফাঁকির সম্ভবনা নেই, সম্পদ গোপন হয়নি বা সম্পদের উৎস যথাযথ আছে তাদের ফাইল শুরুতেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব!
28/04/2026
Tax Exempted Income.
28/04/2026
চেম্বারে রোগীর উপচে পড়া ভিড়, ওটিতে সিরিয়াল, কিন্তু আয়কর রিটার্নের ফাইলে খাঁ খাঁ শূন্যতা❓
ডাক্তার সাহেবদের এমন চিত্র আমরা আয়কর অফিসে হরহামেশাই দেখি। দিন-রাত এক করে মানুষের জীবন বাঁচালেও, বছর শেষে নিজের আয়করের ফাইলটা বাঁচানোর সময় আর ফুরসত অনেকেরই মেলে না❗
একজন ট্যাক্সম্যান হিসেবে আমি আজ আপনারা যাঁরা ডাক্তার তাঁদের জন্য আয়কর বিষয়ে কিছু পরামর্শ দেব; যা মেনে চললে আশা করি, আয়কর নিয়ে আপনাদেরকে আর ঝামেলা বা জটিলতায় পড়তে হবে না।
জটিলতা বা ঝামেলা কী কী হয়ে থাকে সেটা আগে বলি।
প্রথমত, আপনারা অনেকেই আয়কর কীভাবে হিসাব করতে হয় সেটা জানেন না। ফলে, আয়কর আইনজীবীদের দারস্থ হন।
দ্বিতীয়ত, আপনার আয়কর নথি আয়কর আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী তদন্তের জন্য নির্বাচিত হতে পারে।
প্রথম সমস্যাটার ব্যাপারে আমি বেশি কিছু বলব না। শুধু এটুকু পরামর্শ দিতে চাই, আপনি যেন আপনার আইনজীবীর কাছ থেকে পাই পাই করে হিসাব বুঝে নেন। আপনার বেতন আয়ের পাশাপাশি পেশাগত আয় হিসেবে কত আয় প্রদর্শন করা হলো তা আপনাকে জানতে হবে। আইনজীবী যে আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন, সেই রিটার্নে নিজের স্বাক্ষর ও সিল দেবেন এবং রিটার্নের কপি অবশ্যই আপনার কাছে রাখবেন।
রিটার্নের সাথে যে সকল ডকুমেন্টের তথ্য দেবেন, সেগুলোর একসেট কপিও আপনার ফাইলে রাখবেন। আর কেউ যদি নিজেই রিটার্ন পূরণ করে জমা দেন, সেক্ষেত্রেও ওপরের কাজগুলো করতে হবে। মোটকথা, আয়কর অফিসের অনুরূপ একটি ফাইল আপনার নিজের কাছেও সংরক্ষণ করতে হবে। এখন অনলাইন হওয়ায় বিষয়টি একেবারেই সহজ।
এখন আপনার আয়কর নথি অডিটের জন্য নির্বাচিত হলে কী করবেন?
এই প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ; আপনার আয়ের সপক্ষে যদি প্রমাণাদি থাকে তবে তা সংযুক্ত করে লিখিতভাবে উত্তর দেবেন। কিন্তু সমস্যা হলো— আপনারা বেশিরভাগই কোনো প্রমাণাদি সংরক্ষণ করেন না। কীভাবে আপনার আয়ের সপক্ষে প্রমাণাদি সংরক্ষণ করবেন সেটিই মূলত আমার আজকের লেখার উদ্দেশ্য।
আপনাদের বেতন আয়ের সপক্ষে প্রমাণাদি নিয়ে সাধারণত কোনো সমস্যা হয় না। কারণ বেতন আয় সুনির্দিষ্ট এবং সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট দ্বারা সমর্থিত হয়ে থাকে। সমস্যা হয় মূলত পেশাগত আয় নিয়ে। এক্ষেত্রে আপনাকে মনে রাখতে হবে যে, আপনার আয়ের সপক্ষে প্রমাণাদি দাখিলের দায়িত্ব আপনারই। আপনি যখনই তা করতে ব্যর্থ হবেন তখন আয়কর কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট আইনিক বিধান অনুসারে আপনার আয় পুনরায় নির্ধারণ করবেন। এই পুনর্নির্ধারিত আয় আপনার প্রকৃত আয় থেকে বেশি যেমন হতে পারে, তেমনি তা কমও হতে পারে।
তাহলে, আপনার করণীয় হলো— আপনার পেশাগত আয়ের হিসাব রাখা এবং তা সংরক্ষণ করা। আপনি যদি চেম্বারে রোগী দেখেন তাহলে একটি রেজিস্টার খাতা সংরক্ষণ করুন। রেজিস্টার খাতায় যেদিন রোগী দেখবেন সেদিনের তারিখ দিয়ে ক্রমিক নম্বর, রোগীর নাম, রোগীর মোবাইল নম্বর, রোগী নতুন না পুরনো, রোগের বিবরণ, পরামর্শ ফি, রোগীর স্বাক্ষর প্রভৃতি তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মনে রাখবেন, রোগীর মোবাইল নম্বর অবশ্যই দিতে হবে; কারণ এই রোগী হলেন আপনার সাক্ষী। কর পরিদর্শক যখন আপনার অডিট মামলাটি তদন্ত করবেন, তখন আপনার তথ্যের সঠিকতা তিনি এর মাধ্যমে সহজেই যাচাই করতে পারবেন।
আপনাদের হাতের লেখা (প্রেসক্রিপশন) বুঝতে গিয়ে ফার্মেসির দোকানদারের যেমন ঘাম ছুটে যায়, আপনাদের আয়কর ফাইল ও হিসাবের খাতা বুঝতে গিয়েও আমাদের কর পরিদর্শকদের প্রায় একই অবস্থা হয়! ভাই, প্রেসক্রিপশন আমরা না হয় কষ্ট করে বুঝে নেব, কিন্তু আয়করের হিসাবটা অন্তত একটু পরিষ্কার রাখুন!
ধরুন, আপনি সপ্তাহে ০৫ দিন রোগী দেখেন। এই ০৫ দিনের কোনো একদিন যদি রোগী না দেখেন সেক্ষেত্রে আপনি রেজিস্টারে ঐ দিন রোগী না দেখার কারণ উল্লেখ করে দিন। আবার, অনেক সময় আপনি কোনো রোগীর কাছ থেকে পরামর্শ ফি নাও নিতে পারেন; সেটাও রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করুন। মোটকথা, আপনাকে সুস্পষ্ট হিসাব রাখতে হবে।
আপনি যদি কোনো প্রাইভেট ক্লিনিকে অপারেশন করেন তাহলে সেই ক্লিনিক থেকে অবশ্যই ফি প্রাপ্তির জন্য রশিদ নিয়ে নেবেন এবং তা সংরক্ষণ করবেন। এক্ষেত্রে ক্লিনিকের দায়িত্ব হলো আপনাকে উৎসে কর কর্তন করে ফি পরিশোধ করা; যা তারা অনেক ক্ষেত্রেই করে থাকে না। অথচ, উৎসে কর কর্তন করে রাখলে আপনারই সুবিধা। বেতন থেকে যেমন প্রতি মাসে আপনি আয়কর কেটে রাখেন, বিষয়টা তেমনই। রিটার্ন দাখিলের সময় কেবল আপনাকে উৎসে করের সপক্ষে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক থেকে চালানসহ প্রত্যয়ন নিতে হবে।
আপনার পেশাগত খাতে প্রাপ্তির বিপরীতে সাধারণত তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩ অংশ) খরচ দাবি করতে পারবেন। অর্থাৎ, আপনি যদি রোগী দেখে বছরে ১২ লাখ টাকা পরামর্শ ফি প্রাপ্ত হন তবে আপনি খরচ হিসেবে পাবেন ০৪ লাখ টাকা; বাকি ০৮ লাখ টাকা হবে আপনার নিট আয়। তবে, আপনার যদি ১/৩ অংশের চেয়ে বেশি খরচ হয়, তবে তার জন্য আপনাকে অবশ্যই হিসাবের খাতাপত্র সংরক্ষণ করতে হবে এবং তা সংশ্লিষ্ট ভাউচার বা ডকুমেন্ট দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে।
মনে রাখবেন, এখানে খরচ বলতে রোগী দেখার সাথে সংশ্লিষ্ট সাধারণ খরচাদিকে বোঝায়। যেমন— চেম্বারের ভাড়া, পিএ বা এসিস্ট্যান্টের বেতন, চেম্বারের বিদ্যুৎ বিল প্রভৃতি।
লেখাটি আর বড়ো করব না। আমি যে বিষয়টি বলতে চেয়েছি আশা করি, তা নিশ্চয়ই আপনাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়েছে। আমার অল্প সময়ের চাকরির অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এ ব্যাপারে আপনারা উদাসীন এবং মোটেও সচেতন নন। আমি ডাক্তারদের আয়কর মামলার এ পর্যন্ত যে কয়টি তদন্ত করেছি কোনোটির ক্ষেত্রেই সচেতন কাউকে পাইনি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। মনে রাখবেন, সচেতনতাই পারে আয়কর সম্পর্কিত সকল জটিলতা থেকে আপনাকে মুক্ত রাখতে। শুধু আপনার আয়ের ক্ষেত্রেই নয়; যেকোনো বিনিয়োগও সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে। অর্থাৎ, আপনি জমি বা বাড়ি বা গাড়ি কিনলেন; তার প্রমাণাদি আপনাকে অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। পারিবারিক ব্যয় প্রদর্শনের সময় তা খাতওয়ারি উল্লেখ করবেন।
আপনাদের জন্য শেষ পরামর্শটি হলো— আপনার পেশাগত আয়ের সকল ডকুমেন্ট পিছনে অন্তত ০৬ বছরের জন্য সংরক্ষণ করবেন; কারণ পিছনের ০৬ বছর পর্যন্ত আপনার আয়কর নথিটি পুনরায় উন্মোচিত হতে পারে।
লেখাটি শেষ করছি, রোগীর সেবায় নিয়োজিত ডাক্তারদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদনের মধ্য দিয়ে।
পাঠকদের প্রতি আবেদন, দয়া করে ডাক্তারদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করবেন না। তার চেয়ে আসুন, আমরা নিজেদেরকেই মূল্যায়িত করি।
#ডিসক্লেইমার: লেখাটি কোনোভাবেই সম্মানিত ডাক্তারদের হেয় করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং আয়কর বিষয়ে সচেতন করে তাঁদের সম্ভাব্য আইনি জটিলতা থেকে মুক্ত রাখার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র।
আব্দুল্লাহ আল নোমান
🤔 রিটার্ন না দেওয়া ই-টিআইএনধারী দ্রুত রিটার্ন দাখিলের বিকল্প নেই — ভুল রিটার্ন আরও বড় বিপদের কারণ!
সম্প্রতি এনবিআর জানিয়েছে, প্রায় ৮০ লাখ নন-ফাইলার (রিটার্ন না দেওয়া ই-টিআইএনধারী) শনাক্ত করে তাদের কাছে অটোমেটেড নোটিশ পাঠানো হবে। তাই এখনই সচেতন না হলে আইনি ঝুঁকি বাড়তে পারে।
👉কেন দ্রুত রিটার্ন দাখিল জরুরি?
1️⃣ অটোমেটেড নোটিশ আসবেইই-টিআইএন ও ই-রিটার্ন ডাটাবেজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নন-ফাইলার শনাক্ত হচ্ছে — লুকানোর সুযোগ নেই।
2️⃣ নোটিশের পর ইন্সপেক্টর ভিজিটরিটার্ন না দিলে সরাসরি মাঠ পর্যায়ে তদন্ত (Inspection) হতে পারে।
3️⃣ আইনি বাধ্যবাধকতা (Income Tax Act, 2023)যোগ্য ব্যক্তি হয়েও রিটার্ন না দিলে জরিমানা, দণ্ড ও অন্যান্য শাস্তির ঝুঁকি।
4️⃣ রিস্ক-বেসড অডিট শুরু হয়েছেম্যানুয়াল সিলেকশন বন্ধ — এখন সম্পূর্ণ সিস্টেম-জেনারেটেড অডিট, ফলে ধরা পড়ার সম্ভাবনা বেশি।
5️⃣ ফাইন্যান্সিয়াল কার্যক্রমে বাধারিটার্ন না থাকলে ব্যাংক লোন, ভিসা, টেন্ডারসহ অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা হয়।
😭ভুল রিটার্ন কেন আরও বিপজ্জনক?
1️⃣ অপ্রদর্শিত আয় ধরা পড়লে উচ্চহারে কর + জরিমানা(ধারা ১৭৫ অনুযায়ী উৎস প্রমাণ না করতে পারলে সমস্যা)
2️⃣ মিথ্যা তথ্য দিলে শাস্তিযোগ্য অপরাধভুল তথ্য বা গোপন তথ্য দিলে জরিমানা ও প্রসিকিউশনের ঝুঁকি।
3️⃣ অডিটে ধরা পড়লে বড় অঙ্কের পেনাল্টিরিস্ক-বেসড অডিটে ছোট ভুলও বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে।
4️⃣ ট্যাক্স প্রোফাইল ঝুঁকিতে পড়েএকবার সন্দেহভাজন হলে ভবিষ্যতে নিয়মিত অডিট হতে পারে।
5️⃣ হুইসেল ব্লোয়ার সিস্টেম চালু হচ্ছেসাধারণ মানুষও তথ্য দিলে তদন্ত হতে পারে — গোপন রাখার সুযোগ কমছে।
🏃 কি করবেন এখন?
✔️ সঠিক তথ্য দিয়ে দ্রুত রিটার্ন দাখিল করুন
✔️ আয়-ব্যয়ের ডকুমেন্ট ঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন
✔️ প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ট্যাক্স পরামর্শকের সহায়তা নিন
✔️ জটিলতা বা ঝুঁকি থাকলে আয়কর আইনজীবীর সহায়তা নিন
✔️ ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে নিজেই ফাইল করুন
📌 শেষ কথা:“রিটার্ন না দেওয়া ঝুঁকি, আর ভুল রিটার্ন দেওয়া আরও বড় ঝুঁকি।”ডিজিটাল নজরদারির এই যুগে কমপ্লায়েন্সই একমাত্র নিরাপদ পথ।
আইনকে পাশ কাটিয়ে নয়, আইনকে বুঝে চলাই হলো আসল বুদ্ধিমানের কাজ।
👉সচেতন হোন, ঝামেলা এড়ান।
ধন্যবাদান্তে,
মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী
আয়কর আইনজীবী
জাতীয় রাজস্ববোর্ড
মোবাইল 01711-461633
বি:দ্র: কাজের আগে কোন পেমেন্ট দিবেন না।👈
১। পাসপোর্ট ও জন্ম নিবন্ধন দিয়ে দিয়ে নতুন টিন খোলা👍
২। কর অঞ্চল ও সার্কেল পরিবর্তন 👍
৩। ইউজার আইডি পাসওয়ার্ড রিকভার👍
৪। টিনের যেকোনো কিছু কারেকশন 👍
৫। সকল প্রকার ব্যক্তি রিটার্ন ও কোম্পানির রিটার্ন দাখিল করে ডকুমেন্টস প্রদান করা।👍
৬। অফলাইনে দাখিলকৃত রিটার্ন অনলাইনে এন্ট্রি করে দেয়া যাবে 👍
৭। অফলাইন অনলাইন সকল প্রকার রিটার্ন। 👍
৮। নতুন বিন এবং বিন এর সকল কাজ। 👍
৯। প্রবাসীদের জন্য পাসপোর্ট দিয়ে টিন খুলে দেয়া যাবে এবং রিটার্ন করে দেয়া যাবে। 👍
১০। ব্যাক্তির নামে ফার্মেটিন করে দেয়া যাবে 👍
১১। একাধিক টিন থাকলে একটা রেখে বাকিগুলো বাতিল করা যাবে এবং এনআইডি লিংক করা যাবে👍
১২। ওঠিপি ছাড়া ই-রিটার্ন আই ডি করে দেয়া যাবে 👍
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Sylhet
3100