15/09/2026
জিয়ার সন্তান ও অনুসারীদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা
বাংলাদেশের শাসকদের মধ্যে যে লোকটি যুগ যুগ ধরে প্রশংসিত হয়েছেন এবং হবেন বলে আমাদের বিশ্বাস তিনি হচ্ছেন প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাহিমাহুল্লাহ। যিনি উত্তরাধিকারসূত্রে একটি খারাপ সংবিধান পেয়ে সেটাকে যতটুকু সম্ভব পরিবর্তন করেছেন। তিনিই সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম সংযোজন করেছেন, তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি আলেম-ওলামাদের মর্যাদা সমুন্নত করেছেন। আজও অনেক মুসলিমদের নয়নের মনিকোঠায় তার নামটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। তিনি তাঁর সময়ে যারা মাদ্রাসার সর্বোচ্চ লেভেল কামিল পর্যায়ে ভালো রেজাল্ট করতেন তাকে সাথে নিয়ে সফর করতে পছন্দ করতেন। এজন্য ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ এ বিরল সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। যদি জিয়াউর রহমান রাহিমাহুল্লাহ ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত শাসন ক্ষমতায় থাকতেন হয়ত আমিও সে সুযোগটি পেয়ে যেতাম।
যাক, জিয়ার সন্তান ও অনুসারীদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে তারা দীন, আকীদা ও শরীয়াহ বিরোধী কিছু করবেন না। তাদের সামান্য ভুলকে অন্যরা বড় বানিয়ে নিজেদেরকে অন্যদেরকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টায় ত্রুটি করবে না।
বর্তমানে যে আইনটি তড়িগড়ি করে পাশ করানো হলো, তা বাহ্যিকভাবে পিতা-মাতাকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর প্রবণতা থেকে বাঁচানোর প্রচেষ্টা। কিন্তু এর ভয়াবহ সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করা দরকার বলে আমি মনে করি।
প্রথমত,
বৃদ্ধাশ্রমগুলো সহায় সম্বলহীন ছাড়া সাধারণ পিতা-মাতার জন্য নয়, এমন আইন থাকা দরকার; এর ব্যতিক্রম করা হলে সন্তানদেরকে আইনের আওতায় আনা দরকার। এ ব্যাপারে আইনের চেয়ে দীনী শিক্ষা ও মানবিক শিক্ষার বিষয়টি সন্তানদের মধ্যে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা দরকার।
দ্বিতীয়ত,
পিতা-মাতা তাদের জীবদ্দশায় দান বা উইল কোনোটিই না করার জন্য নিয়ম করে দেওয়া দরকার। এমনিতেই ওয়ারিশদের জন্য উইল করা নিষিদ্ধ। আর ওয়ারিশদের বাইরে অন্যদের জন্য করতে হলেও এক তৃতীয়াংশের মধ্যেই কেবল করতে পারবে। আর দান করার বিষয়টিও নীড বেসিস হতে হবে। শরীয়াহ নীতি লঙ্ঘন করে করার বৈধতা নেই।
তৃতীয়ত,
যদি সন্তানদেরকে দিতে হয় তো ইনসাফের মানদণ্ড যেন অতিক্রম না করা হয় সেটার প্রতি নির্দেশনা দেওয়া দরকার।
চতুর্থত,
সন্তানদের মধ্য হতে যাদের অবস্থা দুর্বল তাদেরকে পিতা-মাতা বাড়তি সাহায্য করতে পারবেন, সেটা যেন কোনোভাবেই নিজেকে নিঃস্ব করে না হয় সেটা নিশ্চিত করা দরকার।
পঞ্চমত,
এসব আইন (যেমন বর্তমান হিবা সংক্রান্ত আইন) যখন করা হয়, তখন বিশেষ একটি দিক বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে সুদূরপ্রসারী চিন্তা করা দরকার। কারণ এ আইন পাশ হয়ে গেলে,
- ইসলামী শরীআতের মীরাসের আইনকে পাশ কাটানো হয়ে যাবে।
- মীরাসী নিয়ম বন্ধ হয়ে যাবে। যা আমাদের কাছে আমাদের শত্রু কাফির, মুশরিক, ইয়াহূদী ও নাসারাদের প্রত্যাশা। আর তাদের প্রত্যাশা পূরণ করার অর্থ কুফরীকে ডেকে আনা।
- একজন তার মেয়েকে বঞ্চিত করার জন্য সব কিছু ছেলেদের নামে হেবা করবে আর সারা জীবন খেয়ে যাবে। অথবা
-একজন তার সম্পদ এক ছেলেকে দিবে আর অপর ছেলেদের বঞ্চিত করবে। অথবা নিজের খেয়াল-খুশিমত দান করবে, শর‘ঈ নিয়ম বাদ দিয়ে নিজের মত করে কম বেশ করবে। অথবা
- একজন তার মেয়ে ও ছেলেকে সমান করে দিবে, যা ইসলামী শরী‘আতের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অথবা
- একজন তার মেয়েকে সব দিয়ে দিবে, যাতে করে ভাতিজাদের বঞ্চিত করা যায়, তারপর সেটা মেয়ে থেকে নিয়ে নিজে ভক্ষণ করে যাবে।
এসবই আল্লাহর দীন ও তাঁর দেওয়া শরী‘আতকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া।
ষষ্ঠত,
এ আইনের মাধ্যমে আল্লাহর শরী‘আতে অবৈধ হাত প্রবেশকারীর আইয়ূব খানের ১৯৬১ সালের বিধানের অনুসরণ করা হবে। ইসলামী বিধানের দৃষ্টিতে আইয়ূব যা করেছে তা সম্পূর্ণরূপে ইসলাম বিরোধী ও আল্লাহর বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর মাধ্যমে বিচারকারী ও বিচার গ্রহণকারী উভয়ের ঈমান বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে।
তাই, আমি ব্যক্তিগতভাবে ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ ও ল বিভাগের একজন সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে অনুরোধ জানাবো ইসলামী শরীআতের এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে উক্ত আইনের বিকল্প কী হতে পারে তা নিয়ে আলেমগণকে নিয়ে আলোচনা করুন। এটাকে নিছক মানবিক মনে করে আইন করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, ইসলামী শরী‘আতই মানবিকতার সর্বোচ্চ নীতি প্রদর্শন করেছে। এর বিরোধী কিছু দিয়ে কখনও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হবে না। বরং বিপর্যয় ডেকে আনবে।
সপ্তমত,
ইসলামে একজন শাসকের প্রথম কর্তব্য হচ্ছে ‘দীন সংরক্ষণ করা’, তারপর অন্যকিছু। যারাই এর ব্যতিক্রম করেছে তারাই পরবর্তীতে নিন্দিত হয়েছে।
সুতরাং আপনাদের সময় ও সুযোগ আছে নন্দিত হওয়ার, আপনারা কেন নিন্দিত হবেন? কেন আকবর কিংবা আইউব খানদের মত নিজেদেরকে
ইতিহাসের নিকৃষ্টতায় নিয়ে যাবেন?
আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমীন।