21/10/2026
#জিরো_রিটার্ন_ফাঁদ !!!
(২য় পর্ব)
মনে করুন, আপনার কোনো জমিজমা, ফ্ল্যাট, গহনা, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, ব্যাংক ব্যালেন্স, নগদ অর্থ কিংবা অন্য কোনো সম্পদ নেই! সেক্ষেত্রেই সম্পদের পরিমাণে ০/- (শুন্য) টাকা প্রদর্শন করে রিটার্ন জমা দিতে পারেন।
বাস্তবে যিনিই রিটার্ন দাখিল করছেন, তিনি কোনো না কোনো কাজে রিটার্ন দাখিল করছেন- এটা আয়কর অফিস ভালো করেই জানেন! সেক্ষেত্রে আপনার সম্পত্তি ব্যালেন্স একদম শুন্য- সেটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না, আয়কর অফিস তো বহুদূর!
সংযুক্ত ছবির ভদ্রলোক তার সমুদয় সম্পত্তির পরিমাণ শুন্য দেখিয়ে তেমনটাই বিশ্বাস করতে বলেছেন!
বাস্তবে যা হয়েছে: যিনি রিটার্ন তৈরি করে দিয়েছেন, তিনিই আসলে করদাতাকে ব্যাপারটা জানান নি। করদাতা জানলে হয়তো এমনটা করতে দিতেন না! করদাতা অল্প টাকায় রিটার্ন তৈরির বিজ্ঞাপন দেখে কম্পিউটার কম্পোজের দোকান থেকে ১০ মিনিটে রিটার্ন জমা দিয়ে, গরম গরম রিটার্ন প্রিন্ট নিয়ে বাড়িতে চলে গিয়েছেন। পরবর্তীতে এমন শুন্য সম্পত্তি আর অন্যান্য তথ্যের আলোকে আয়কর অফিস থেকে এলো নোটিশ! নোটিশ আসাই যুক্তিযুক্ত, এমন পরিস্থিতিতে নোটিশ না আসলেও ভবিষ্যতে নোটিশ আসবে বলে অপেক্ষায় থাকাই যুক্তিযুক্ত!
আয়কর আইনে ১৬৭ ধারায় অসম্পূর্ণ পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করলে, আয়কর অফিস ব্যাখ্যা তথ্য চেয়ে নোটিশ জারি করতে পারে। নোটিশের জবাব না দিলে তখন করদাতার রিটার্ন জমা দেয় নি মর্মে বিবেচিত হতে পারে এবং অন্যান্য ধারায় আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে।
মোদ্দাকথা, আপনার সম্পত্তি আছে দেখাবেন। তা না করে শুন্য বসিয়ে দিয়ে পার পেয়ে যাবেন, সে চিন্তা করবেন তো নতুন আইনি সমস্যাকে দাওয়াত দিলেন!
আয়কর আইনের মধ্য দিয়ে রিটার্নের যাবতীয় কর্মকাণ্ড আর্বতিত হয়। তাই, আনাড়ি হাতে সামান্য টাকার মাধ্যমে আয়কর রিটার্নের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সারার চিন্তা থেকে সরে আসতে হবে। অমুকে কাজ সেরেছে, আমারও সারবে- বিষয়টা অনেকটা বিশেষ রোগের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থেকে না করে ফার্মেসী দোকানীর পরামর্শে অল্প টাকার টেবলেট খেয়ে ফেলার মতোই- ভবিষ্যতে হিতে বিপরীত হবার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
#রিটার্ন দিন সময়মত, #আয়কর দিন পরিমিত।
দক্ষ হাতে করুন, ঝামেলা এড়ান।