সরকারের প্রতি প্রচলিত ইসলামী রাজনীতি দলসমূহের প্রস্তাবনা কেমন হওয়া উচিত?
--
কিছু দিন আগে একটি ইসলামী রাজনৈতিক দলের গোল টেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ হয়। রাজনৈতিক কোনও ব্যানারে আলোচনায় অংশগ্রহণের এটিই প্রথম অভিজ্ঞতা। এক ভাইয়ের অনুরোধে অংশগ্রহণ করি।
বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের কী কী প্রত্যাশা, দাবি, সেগুলো প্রথমে লিখিতভাবে পাঠ করা হয়। এরপর উপস্থিত যারা, তাদের থেকে উন্মুক্ত মত নেয়া হয়।
দেখলাম, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের যেসব প্রস্তাবনা থাকে, প্রায় সেগুলোই এখানে পুনরাবৃত্তি হয়েছে। যেসব বিষয়ে অন্যারা কথা বলেন না, সেগুলো এখানেও অনুপস্থিত। কয়েকটি উদাহরণ দেই-
ক. বাংলাদেশে হালাল ফুড নিশ্চিত করা। বিদেশ থেকে কোনও ফুড আসতে হলে তা হালাল সার্টিফাইড হতে হবে। দেশীয় উৎপাদক হালাল সার্টিফাইড হতে হবে। এর আগে দেশের সার্টিফায়ার বডি সুদৃঢ় করা।
খ. ওয়াকফ প্রশাসনকে শুধু চাঁদা গ্রহণকারীর ভূমিকায় না রেখে ওয়াকফ খাত বিস্তৃত ও দখলকৃত ওয়াকফ সম্পদ পুনরুদ্ধারের ভূমিকায় নিয়ে আসা।
গ. ব্লাসফেমি, ধর্ম অবমাননা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও অনুরূপ আচরণ'কে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা ।
এগুলো এমন এমন খাত, যেগুলো নিয়ে সাধারণত অন্যরা খুব একটা কথা বলেন না। এরকম আরও আছে। এখানে সব লিখতে গেলে তালিকা বড় হয়ে যাবে।
ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর এগুলো নিয়ে গবেষণা ও পরিকল্পনা করার জন্য স্বতন্ত্র রিসার্চ ইউনিট থাকা দরকার।
শুধু মুখে মুখে খিলাফত কায়েম করে ফেলবো বললে তো হবে না। ইন্টেলেকচুয়াল গ্রাউন্ড তৈরি করতে হবে।
আজকে যদি আপনাকে অর্থনীতির দায়িত্ব দেয়া হয়, আপনি কি ফরেইন ডেট এর সুদমুক্ত বিকল্প দেখাতে পারবেন? এর জন্য কি প্রয়োজনীয় গবেষণা আপনাদের আছে?
এই যে এখন ব্যাংকগুলোর লিকিউডিটি ক্রাইসিস চলছে, এর সমাধানে ইসলামী রূপরেখা কী হতে পারে?
অর্থনীতির সামগ্রিক সংস্কার করা ছাড়া কি একটি দেশ পুনর্গঠন করা সম্ভব? সেই গবেষণা কি আমাদের দৃশ্যমাণ?
দেশের প্রতিটি সেক্টর নিয়ে স্বতন্ত্র, যৌক্তিক প্রস্তাবনা তৈরি করুন। অর্থনীতি, স্বাস্থ্য খাত, সামাজিক খাথ, শিক্ষা খাত, ধর্ম, ব্যবসা, মাদরাসা ইত্যাদি। এগুলো এক দিনে হয় না। দীর্ঘ গবেষণা থাকতে হয়। নানা ঘরনার সাথে মতবিনময় করতে হয়। তাহলেই যৌক্তিক প্রস্তাবনা দেয়া যায়।
বামরা এদিক থেকে অনেক এগিয়ে। একটি উদাহরণ দেই, গত ২০২২ এ গণকমিশন একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল। নাম ছিল-“বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ২০০০ দিন”।
আপনি ধারণা করতে পারবেন এর পৃ. সংখ্যা কতো ছিল? ১০৪০ পৃ.। জি ঠিকই পড়ছেন। এক হাজার চল্লিশ পৃ.।
আরেকটি উদাহরণ নিন, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি কোভিডের পর পর বাংলাদেশ নিয়ে পুরো অর্থনীতির রূপরেখা প্রকাশ করেছিল। বইটির নাম ছিল-“বড় পর্দায় সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র, ভাইরাসের মহা বিপর্যয় থেকে শোভন বাংলাদেশের সন্ধানে”।
এর পৃ. সংখ্যা: ৬৬০। পুরো কভিড জোরে তারা বাসায় বসে বসে এই অর্থনীতির রূপরেখা তৈরি করেছে। পূঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র বাদ দিয়ে নতুন একটি তত্ত্ব উদ্ভবের দাবি করেছিল তারা।
এবার বলুন-আমাদের প্রস্তুতিগুলো কেমন? আমরা একটি বাংলাদেশের বাজেট রূপরেখা নিয়ে একটি বাস্তবধর্মী গবেষণা বের করতে পেরেছি?
বস্তুত প্রচলিত ইসলামী রাজনৈতিক দলসমূহের মাঝে ব্যাপকভাবে গবেষণার অভাব। আমার মনে হয়-এ বিষয়ে উচ্চ নেতৃবৃন্দের সুদৃষ্টি দেয়া দরকার।
অন্তত অর্থনীতি নিয়ে যেকোনও গবেষণা, কাজে আমরা সব সময় খেদমত করতে প্রস্তুত।
Abdullah Masum
CSAA, AAOIFI । Deputy Mufti, jamia shariyyah malibagh dhaka। Founder Director, IFA Consultancy Ltd (IFAC)
সম্প্রতি অন্তবর্তী সরকারবৈদেশিক ঋণের চিন্তা করছে। আমাদের বৈদেশিক ঋণের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে। এর পেছনে কারণ কী? আর যেকোনও সমস্যায় বৈদেশিক ঋণ-ই কি একমাত্র ভরসা? এর বিকল্প চিন্তাগুলো কী হতে পারে? জানতে শুনতে পারেন, দেখতে পারেন-
30/08/2024
অন্তর্বর্তী সরকার তিন বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সুদী ঋণ নেয়ার চিন্তা করছে: আমাদের ভাবনা কী?
--
এটি অত্যন্ত দুখ:জনক সংবাদ। অলরেডি বাংলাদেশের বৈদেশিক সুদী ঋণের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উপনীত। ১২০ টাকা প্রতি ডলার মূল্য হলে বাংলাদেশী টাকায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে মাথাপিছু আমাদের বৈদেশিক ঋণ হয়ে আছে ৭০ হাজার ডলারের মতো।
এর মধ্যে সরকার বন্যা পুনর্বাসন ও রি-শিডিউলিং এর জন্য পুনরাং সুদী ঋণ করতে যাচ্ছে। এতে নি:সন্দেহে আমাদের সুদী ঋণের বোঝা আরও বেড়ে যাবে।
”অন্তবর্তী সরকারের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা ও আমাদের ভাবনা” নোটটি উন্মুক্ত করেছি।
ছাত্র সমন্বয়ক ও অন্তবর্তী সরকারের সংশ্লিষ্টজন বরাবর নোটটি পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ করে দিন।
যেকোনও সমস্যায় শুধু শুধু বৈদেশিক সুদী ঋণ করার কোনও মানে নেই। আমাদের মাথায় ঋণের বোঝা আরও বাড়ানোর আগে মতামত নিন। উন্মুক্ত আলোচনার দ্বার অবমুক্ত করুন।
প্রতিটি ইসলামী রাজনৈতিক দলের উচিত এগুলো নিয়ে কথা বলা। সরকারকে গঠনমূলক পরামর্শ প্রদান করা।
পিডিএফ লিংক https://www.dropbox.com/scl/fi/2c11q0vn4ie2lmjl45vde/.pdf?rlkey=mzgz5h7rct24jhhsq1eycq1ii&st=n62py30m&dl=0
26/08/2024
তথাকথিত সোস্যাল বিজনেসের ইসলামী অল্টারনেটিভ। কিছু বোঝা যায়?
30/06/2024
বুকিং মানি: শরিআহ পর্যালোচনা
--
আজকাল ফ্ল্যাট থেকে শুরু করে নানা কিছু ক্রয় করতে কিংবা সার্ভিস বুকি দিতে অগ্রিম কিছু টাকা প্রদান করতে হয়। যা বুকিং মানি নামে পরিচিত।
এর নানা শরিআহ পর্যালোচনা আছে। এসব নিয়ে কথা হবে ইনশাআল্লাহ-আজ রাত সাড়ে নয়টায় এই পেইজ থেকে। সঙ্গেই থাকুন।
#অনলাইনে #ভাগে #কুরবানী #শরিআহ #জেনে #নিন
কুরবানী একটি খালেস ইবাদত। এটি নিছক মাংস ভোজন নয়। তাই শরিআহর নিয়ম অনুসারেই তা পালন করতে হয়।
সম্প্রতি অন লাইনে/খামারীগণ পশুতে ভাগ বা শরীকে কুরবানী নেয়ার সুযোগ দিচ্ছেন। মৌলিকভাবে শহুরের ব্যস্ত মানুষের জন্য এটি খুব ভালো একটি সুযোগ ও সার্ভিস। তবে কুরবানী যেহেতু একটি ইবাদত, তাই শরিআহর নির্দেশনা অনুসারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিভিন্ন খামারী/অন লাইন কুরবানীর পশু বিক্রেতাদের ভাগে কুরবানী দেয়ার পলিসি, ব্যবস্থা ইত্যাদি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সেখানে নানা ধরনের শরিআহ ঝুঁকি রয়েছে। যেমন-
-যারা ভাগে শরীক হচ্ছেন, তাদের প্রদত্ত অর্থ হালাল হওয়া না হওয়া।
-যারা ভাগে শরীক হচ্ছেন, তাদের নিয়্যাহ এর বিশুদ্ধতা।
-পশুর নানা অংশ বিনিময়যোগ্য করা না করা
-চুক্তির প্রকৃতি নির্ণয় করা।
-প্রবাসী ভাইদের পক্ষে কুরবানী করা।
-এক পশুর গোশত অন্য পশুর সাথে মেশানো
উপরোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করেছেন মুফতি Abdullah Masum হাফিযাহুল্লাহ।
আলোচনাটি শুনতে ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখুন ও শেয়ার করুন।
#ইসলামিক #ফাইন্যান্স সংক্রান্ত নানা পোস্ট, দরস, ভিডিও পেতে পেজটি ফলো করুন, শেয়ার করুন। জাযাকুমুল্লাহ।
আমাদের সকলের কুরবানি আল্লাহ ক্ববুল করুন, ঈদ মুবারক।
-এডমিন
#অনলাইনেকুরবানিরশারিয়াবিধান
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Website
Address
Kha, 215/2 JS Tower, Merul Badda
Dhaka