প্রশ্ন : হ্রাসকৃত ১০% মূসক হার হতে আদর্শ ১৫% মূসক হারে প্রত্যাবর্তনের ফলে অবশিষ্ট কাঁচামালের উপর পরিশোধিত আমদানি পর্যায়ের মূসকের রেয়াত গ্রহণ প্রসঙ্গে মতামত প্রার্থনা।
আমাদের প্রতিষ্ঠান এলপিজি সিলিন্ডার উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং বর্তমানে সরবরাহ পর্যায়ে হ্রাসকৃত ১০% মূসক হারে কর পরিশোধ করছে।
ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ০১ জুলাই ২০২৬ তারিখ হতে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদিত সিলিন্ডার সরবরাহের ক্ষেত্রে হ্রাসকৃত ১০% মূসক হারের পরিবর্তে আদর্শ ১৫% মূসক হারে কর পরিশোধ করতে ইচ্ছুক। এ প্রেক্ষিতে নিম্নোক্ত বিষয়ে মতামত প্রার্থনা করা হচ্ছে:
১। প্রতিষ্ঠানটি জানুয়ারি ২০২৬ মাসে ৩,৯৩৫ মেট্রিক টন এইচ.আর. কয়েল আমদানি করে, যার উপর আমদানি পর্যায়ে প্রযোজ্য মূসক পরিশোধ করা হয়েছে।
২। যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি তখন হ্রাসকৃত ১০% মূসক হারে কর পরিশোধ করত, তাই উক্ত আমদানিকৃত এইচ.আর. কয়েলের উপর পরিশোধিত আমদানি পর্যায়ের মূসক রেয়াত হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। পরিশোধিত মূসকের পরিমাণ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ কর মেয়াদের মূসক-৯.১ রিটার্নের অংশ-৪ এর নোট-২২ এ প্রদর্শন করা হয়েছে।
৩। ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত উৎপাদ এইচ.আর. কয়েল ব্যবহৃত হয়েছে। ক্রিমে মোট ৯৭৮ মেট্রিক টন এইচ আর কয়েল ব্যবহার করা হয়েছে
৪। ফলে ০১ জুলাই ২০২৬ তারিখে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অব্যবহৃত এইচ.আর. কয়েল মজুদ অবস্থায় থাকবে, যার উপর আমদানি পর্যায়ে মূসক পূর্বেই পরিশোধিত হয়েছে কিন্তু রেয়াত গ্রহণ করা হয়নি।
এমতাবস্থায় প্রশ্ন হলো:
যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি ০১ জুলাই ২০২৬ হতে আদর্শ ১৫% মূসক হারে কর পরিশোধ করবে এবং আদর্শ হারে কর পরিশোধকারী নিবন্ধিত ব্যক্তি হিসেবে ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট গ্রহণের যোগ্য হবে, সেহেতু ০১ জুলাই ২০২৬ তারিখে মজুদ থাকা অব্যবহৃত এইচ.আর. কয়েলের উপর পূর্বে আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত কিন্তু রেয়াত হিসেবে গ্রহণ না করা মূসক কি মূসক আইন, ২০১২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে হ্রাসকারী সমন্বয় (Input Tax Credit/Decreasing Adjustment) হিসেবে গ্রহণ করা যাবে? বিষয়টি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় মতামত প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো।
উত্তর : ০১. অতিরিক্ত রেয়াত গ্রহণ করা হলে আমি সাধারণত বৃদ্ধিকারি সমন্বয় করে ফেরত দিয়ে দেই। কিন্তু রেয়াতগ্রহণ করা না হলে হ্রাসকারি সমন্বয় করে রেয়াত কখনও গ্রহণ করি নাই। তাই আপনার ক্ষেত্রে হ্রাসকারী সমন্বয় করে ‘প্রাপ্য রেয়াত’ গ্রহণ করা ঠিক হবে বলে মনে করছি না।
০২. জানুয়ারি মাসের রিটার্নটি জুন মাসের মধ্যেই এমেন্ডমেন্ড করে নোট ২২ থেকে উঠিয়ে নোট ১৫ তে এন্ট্রি দিতে হবে। পার্ট ২ তে এমেন্ডমেন্ট করার কারণ হিসেবে নোটে লিখে দিতে পারেন, ‘আমদানিকৃত কাঁচামাল দিয়ে উৎপাদিত পণ্য ১০% মূসক হারে সরবরাহ করায় নোট ২২ এ এন্ট্রি করা হয়েছিল। এখন উৎপাদিত পণ্য ১৫% মূসক হারে সরবরাহ করা হবে বিধায় নোট ১৫ তে এন্ট্রি করা হলো, তাই দাখিলকৃত রিটার্নটি এমেন্ডমেন্ট করার প্রয়োজন হয়েছে।’
০৩. রিটার্ন এমেন্ডমেন্ট করতে জুন মাস পার হলে বিল অব এন্ট্রি রেয়াত গ্রহণের জন্য রিটার্নে প্রদর্শনের যে ৬ মাসের সময়সীমা তা পার হয়ে যাবে। পরবর্তীতে রিটার্ন এমেন্ডমেন্ট করলে আইন অনুযায়ী ‘রেয়াত গ্রহণ’ ঠিক হবে না। অডিটে বাতিল করে দিবে।
০৪. এমেন্ডমেন্ড রিটার্ন ফরমের নোট ২৭ এও একটি এন্ট্রি দিতে হবে। এখানে নোটে লিখে দিতে হবে, ‘আমদানিকৃত কাঁচামালের . . কেজি দিয়ে উৎপাদিত পণ্য ১০% মূসক হারে সরবরাহ করায় রেয়াত হিসেবে গৃহীত . . . . টাকা বৃদ্ধিকারী সমন্বয় করে গৃহীত রেয়াত থেকে বাতিল করা হলো।’
০৫. সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করার পর স্বয়ংক্রীভাবে গৃহীত রেয়াত পরবর্তী মাসের রিটার্ন ফরমের সমাপনী জের এ দেখতে পাবেন। পরে প্রয়োজনীয় ডক্যুমেন্টস নিয়ে সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে এপ্রুভাল নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
#ভ্যাট_রেয়াত #রিটার্ন #ভ্যাট_রিটার্ন
VAT Management Consultancy
A Trusted Income TAX & VAT Compliance Service Provider.
VAT Practitioner certified by BTEB
Income Tax Lawyer (ITP) certified by NBR
Member of Bangladesh VAT Professionals Forum
প্রশ্ন: 2019 (2 month), 2020 (12 month) and 2021 (3 month) vat return online করা হয়নি সেক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে কি?
উত্তর : ইভ্যাট সিস্টেমে লগ ইন করার পর অনেকেই Filling Obligation ফোল্ডারে বিভিন্ন সংখ্যা দেখতে পান। এটার অর্থ হলো এই ফাইলগুলো দাখিল করা হয়নি।
২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে অনলাইন রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক (কাগুজে রিটার্ন দাখিল করার পরও অনলাইনে জরিমানা দেখায়) শুরু হয়। এরপর থেকে পেন্ডিং রেখে পরের মাসের রিটার্ন দাখিল করা যায়নি।
এখন ৩০ শে জুনের মধ্যে অনলাইনে সব রিটার্ন আপডেট করার নির্দেশনা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দেয়ার পর অনেকেই উল্লেখিত প্রশ্নটি করছেন।
ওই সময়ে রিটার্ন দাখিল না করা হলেও অনলাইনে জরিমানা দেখায় নাই, তাই রিটার্ন আপডেট করার প্রয়োজন হয়নি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নির্দেশনা দেয়ায় এখন হার্ডকপির হুবহু তথ্য দিয়ে ও হার্ডকপি রিটার্ন এটাচমেন্ট দিয়ে ২০২১ সালের এপ্রিল মাসের পূর্বের রিটার্নগুলো আপডেট করে নিতে পারেন। ধন্যবাদ।
গত ১৫ জুন ভ্যাট রিটার্ণ মূসক ৯.১ সাবমিট করেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত (১৭ জুন) নোটিফিকেশনস বা মাই ডকুমেন্টস এ রিটার্ণ সাবমিট হওয়া পিডিএফ রিটার্ণ কপি জমা হয়নি। ফিলিং অবলিগেশন এ কোন ডাটা নেই, তার মানে বুঝা যায় রিটার্ণ সাবমিট হয়েছে। এখন আমি রিটার্ণ সাবমিট হওয়া কপি কিভাবে পেতে পারি?
উত্তর : রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন সবাই একসাথে রিটার্ন দাখিল করায় এখন পিডিএফ ফাইল পেতে বিলম্ব হচ্ছে। অনেকেই My Documents ফোল্ডারে এখনও পিডিএফ ফাইল পাননি, আশাকরি আজ ও কালকের মধ্যে রিটার্ন কপি পেয়ে যাবেন।
#ভ্যাট_রিটার্ন #মূসক
আসসালামু ওয়ালাইকুম
একটি জিজ্ঞাসা ছিল, দয়া করে পরার্মশ দিবেনঃ মূসক ৬.৩ এর মাধ্যমে স্পেয়ার-পার্টস কিনা হয়েছে কোম্পানির জন্য, এখন এই ৬.৩ চালানে কর্তনকৃত ভ্যাট কিভাবে ভ্যাট রিটার্নে দেখাবো?
উত্তর : মূসক ৬.৩ দিয়ে স্পায়ার পার্টস ক্রয় করা হলে তা রিটার্ন ফরম এর কোন নোটে উল্লেখ করবেন সেটা নির্ভর করে আপনার প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ম্যানেজমেন্ট এর উপর। তবে সাধারণভাবে বলতে গেলে আপনার মূসক ৬.৩ তে ভ্যাট উল্লেখ থাকলে নোট ২১ আর অব্যাহতিপ্রাপ্ত হলে নোট ১২ তে উল্লেখ করতে পারেন।
আর এই মূসক ৬.৩ জন্য উৎসে মূসক কর্তন করা হলে নোট ২৪ এও দেখাবেন।
সম্মানিত ভ্যাটদাতা, আজকে রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন, তাই সবাই আজকে রিটার্ন দাখিলের চেস্টা করছেন।
সকাল থেকে ইভ্যাট সিস্টেম ব্যবহারে অনেকে সমস্যায় পড়ছেন।
সার্ভার কখনো স্লো, আবার কখনও ডাউন হয়ে যাচ্ছে। তবে মাঝেমধ্যে সার্ভার ঠিকঠাক কাজ করছে। তাই ধৈর্য ধরে বারবার চেস্টা করতে পারেন, অল্প ডাটা সেইভ করে রিটার্ন প্রস্তুত করতে পারেন। আশাকরি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
রিটার্ন দাখিলের সময় বৃদ্ধি করা হবে কি না, সেটা এই মূহুর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না, তাই আজকেই রাত ১১ টা ৫৯ মিনিট সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করে নেন। যদি সময় বৃদ্ধি সংক্রান্ত কোনো নোটিশ ইস্যু হয়, সেটা পাওয়া মাত্রই গ্রুপে শেয়ার করা হবে, ইনশাআল্লাহ। ধন্যবাদ।
প্রশ্ন: আমার ৪ টি গাড়ীর ক্রয় মূল্য
1277800 টাকা, আবার ২ টি বিক্রিত গাড়ীর বিক্রয় মূল্য
566500 টাকা।
বিক্রিত ২টি গাড়ীর কমিশন ২১০০০ টাকা, তাহলে আামার ভ্যাট অনলাইনে কত টাকা দিতে হবে?
ক্রয় ও বিক্রয় করার গাড়ীর একক মূলূ কত হবে? কোথায় এন্টি দিতে হবে?
উত্তর : ক্রয়ের চালান একবারেই এন্ট্রি দিবেন রিটার্ন ফরম নোট ১৪ এ এবং যখন যে কয়টা বিক্রি করবেন সেই মাসের রিটার্ন ফরমের নোট ৪ এ দেখাবেন।
ক্রয়ের চালানে উল্লেখিত মূল্যই গাড়ির ক্রয় মূল্য এবং সরবরাহের সেই ক্লায়েন্ট থেকে প্রাপ্ত চুক্তিমূল্যই আপনার বিক্রি মূল্য (ভ্যাটসহ)।
নোট ৪ ও ১৪ তে এন্ট্রি দিলে অবশ্যই ভ্যাট আইনের ধারা ৪৬ পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে।
রেয়াতগ্রহণ না করলে #রিটার্ন ফরমের নোট ৮ ও ২১ এ এন্ট্রি দিতে হবে, #ভ্যাট হবে সরবরাহ মূল্যের উপর, হার ৭.৫%।
দাখিলপত্র পেশ- কর মেয়াদ ৩ মাস
অর্থ আইন, ২০২৬-এর দফা-১১ দ্বারা মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪ (দাখিলপত্র পেশ) সম্পূর্ণভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
সহজ ভাষায় ধারা ৬৪-এর ব্যাখ্যা;
১. প্রতি ৩ কর মেয়াদ শেষে রিটার্ন দাখিল;
নতুন বিধান অনুযায়ী নিবন্ধিত ও তালিকাভুক্ত ব্যক্তিকে প্রতি তিন কর মেয়াদ (তিন মাস) শেষে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
উদাহরণ:
• জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের রিটার্ন একত্রে দাখিল করা যাবে।
• অক্টোবরের ১৫ তারিখের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে হবে।
২. সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও শূন্য রিটার্নদাতার জন্য ২০ দিন;
সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বীমা কোম্পানি এবং শূন্য (Nil) রিটার্ন দাখিলকারীরা ২০ দিনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
৩. আগাম রিটার্ন দাখিলের সুযোগ;
করদাতা চাইলে নির্ধারিত সময়ের আগেই রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। করমেয়াদ সমাপ্তির পরবর্তী করমেয়াদের যে কোন দিন রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
৪. প্রতি মাসে এক-তৃতীয়াংশ কর জমা দিতে হবে;
যদিও রিটার্ন তিন মাস পরপর দাখিল করা হবে, কিন্তু কর পরিশোধ পুরোপুরি তিন মাস পর নয়।
আইন অনুযায়ী, পূর্ববর্তী তিন কর মেয়াদের প্রদেয় করের মোট পরিমাণের এক-তৃতীয়াংশ প্রতি মাসে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
উদাহরণ:
• জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি-মার্চে মোট VAT প্রদেয় ছিল ৯,০০,০০০ টাকা।
• এপ্রিল, মে ও জুন মাসে প্রতি মাসে ৩,০০,০০০ টাকা করে অগ্রিম জমা দিতে হবে।
• জুন শেষে প্রকৃত হিসাব সমন্বয় করা হবে।
ধন্যবাদ,
মো: আসাদুজ্জামান
মূসক পরামর্শক
দেশে ভ্যাট বা টার্নওভার কর না দিয়ে
ব্যবসায় করার সুযোগ আর থাকছে না
বাজেটের মাধ্যমে ভ্যাট আইনের ১০ ধারায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। এখন থেকে ৫০ লাখ টাকার নিচে বাৎসরিক বিক্রি হলে টার্নওভার কর পরিশোধের নিমিত্তে তালিকাভূক্ত হতে হবে। অর্থ্যাৎ দেশের যেকোনো প্রান্তেই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান থাকুক না কেন এবং বিক্রির পরিমাণ যা ই হোক না কেন, হয় ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ করে ভ্যাট বা তালিকাভুক্তির সনদ নিয়ে টার্নওভার কর পরিশোধ করতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও ব্যাংক হিসাব খোলার সময় প্রমাণক হিসেবে এই সনদপত্র দাখিল করতে হবে।
Click here to claim your Sponsored Listing.