27/06/2026
চীন সফর "আপাতত" অসম্পূর্ণ থেকে গেলো।
প্রশ্ন-১: কেনো এমন হল?
উত্তর: মার্চ মাসে যখন এই সফরের বিষয়ে আলাপ শুরু হল, পিছে আল্টিমেট প্রোপাগান্ডা ছিলো, তিস্তা চুক্তির বদলে ফাইটার জেট। আমরা তিস্তা প্রকল্প দিতে পারি নাই, ওরাও ফাইটার জেট ডিল ক্যান্সেল করে দিয়েছে। সোজা হিসাব।
প্রশ্ন-২: আমরা কেনো তিস্তা প্রকল্প দিতে পারলাম না?
উত্তর: ভারতের কারণে
প্রশ্ন-৩: ভারতের সাথে আওয়ামীলীগ কম্প্রোমাইজ করত, বিএনপি তো করার কথা নয়, তাহলে ভারতের কারণে কেনো?
উত্তর: চীনকে তিস্তা দিয়ে দিলে ভারত পুরো উত্তরবঙ্গ অস্থিতিশীল করে ফেলতো।
প্রশ্ন-৪: কিভাবে?
উত্তর: হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা বাধিয়ে। কিছুদিন আগে এক হিন্দু মহিলার একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়, এটা চীন সফরের আগে বিএনপির উদ্দেশ্যে ভারতের একটা ওয়ার্নিং হুইসেল ছিল।
প্রশ্ন-৫: চীনের সাথে আমাদের তিস্তা চুক্তিতে ভারতের আপত্তি কেনো?
উত্তর: চিকেন নেকের ঠিক নিচে তারা কোনোভাবেই চাইনিজ বেইজ মানছে না।
প্রশ্ন-৬: তাহলে ভারত এই জুজুর ভয় দেখিয়ে আরো অনেক কিছু আদায় করে নিতে পারে?
উত্তর: না। ভারত শুধু চিকেন নেক নিয়ে কনসার্ন। তারা বলে দিয়েছে, চিকেন নেকের গোড়ায় চাইনিজ মেগা প্রোজেক্ট তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। এটা বাদে, বাকি আর সারা বাংলাদেশে চাইনিজ ইনভলভমেন্ট নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই --- আরো কয়েকমাস আগেই খলিলুর রহমানকে এটা জানিয়ে দিয়েছেন অজিত দোভাল।
প্রশ্ন-৭: তাহলে উত্তরবঙ্গের পানির কি হবে?
উত্তর: এখানেই আওয়ামীলীগের সাথে বিএনপির পার্থক্য। আওয়ামীলীগ শুধু ভারতকে দিয়েই যায়, বিনিময়ে কিছু আদায় করার ক্ষমতা নেই। বিএনপি ভারতের কাছে দুপক্ষের জন্যই উইন উইন সিচুয়েশান হয়, পানির এমন ন্যায্য বন্টন দাবি করেছে। ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দিয়েছে তারা এটা নিয়ে সামনে কাজ করবে।
প্রশ্ন-৮: রাষ্ট্রদূতের আশ্বাসে বিশ্বাস করা যায় কি?
উত্তর: চীনের সাথে তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না, এটা কনফার্ম হওয়ার সাথে সাথে ভারত ভিজিট ভিসা খুলে দিয়েছে। এটা পজিটিভ সাইন।
প্রশ্ন-৯: তাহলে চীনের সাথে আমাদের সম্পর্কের এখানেই ইতি?
উত্তর: না। চাইনিজ ইনভেস্টমেন্ট আমাদের জন্য খুব জরুরী। এই সফরের সব থেকে বড় পজিটিভ দিক হল, ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আপাতত আমরা খুব সম্ভবত চীনকে আশ্বস্ত করে পেরেছি যে, আমরা বন্ধু ছিলাম, আছি, থাকব।
প্রশ্ন-১০: বন্ধু ছিলাম ঠিক আছে, কিন্তু সামনে কিভাবে থাকব?
উত্তর: চীন আমাদেরকে দুইটা লাইফলাইন দিয়েছে। একটা লাইফলাইন মিডিয়ায় এসেছে, কোরিডোর নির্মাণ। আরেকটা লাইফলাইন মিডিয়ায় আসেনি। (আসবেও না)।
শি জিনপিং বল তারেক রহমানের কোর্টে ঠেলে দিয়েছেন। তারেক রহমানের আগামি দুই এক মাসে ঐ দুটি লাইফলাইনের উপর কি সিদ্ধান্ত নেন তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। (আমার ব্যক্তিগত ধারণা উনি দুইটাই মানবেন - এছাড়া আমাদের হাতে খুব বেশি অপশান নাই - উই ক্যান নট এফর্ড টু লুজ চায়না)
প্রশ্ন-১১: সমস্যা কি শুধুই ভারত?
উত্তর: না। ইউএস গভীর ভাবে জড়িত।
প্রশ্ন-১২ উত্তরণের পথ কি?
উত্তর: পরিস্থিতি বেশ জটিল। সরকার সব দিক মেইন্টেইন করতে হিমশিম খাচ্ছে। ইন্টেরিম আমলে ইউএসের সাথে বাণিজ্য চুক্তির বেশ কটি ক্লজ দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্ডাস্ট্রিতে চাইনিজ ইনভলভেমেন্টের সুযোগ হ্রাস করে দিয়েছে।
ভালো খবর হচ্ছে, যেহেতু ইউএসের সাথে ঐ চুক্তি হয়েই গেছে, এটাকে মেনে নিয়েই সামনে আগানোর পথ খুজছে বাংলাদেশ ও চীন দুই পক্ষই। এই সংক্রান্ত একটা এমওইউ চুক্তিও হয়েছে।
(তারেক রহমান ও শি জিংপিং একান্ত বৈঠকে এই পয়েন্টই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে এবং উপরে বলা ২য় লাইফলাইনটি এই একান্ত বৈঠকের বিষয়বস্তু রিলেটেড)
প্রশ্ন-১৩: ইন্টেরিম আমলের ইউএসের সাথে ঐ চুক্তি কি এড়ানো যেতো না? কেনোই বা সামনে আবার ইউএসের সাথে গোয়েন্দা/সামরিক কিছু চুক্তির বিষয় সামনে আসছে?
উত্তর: না এড়ানো যেতো না, যাবেনা।
প্রশ্ন-১৪: কেনো ভাই এটা কেমন কথা? জবরদস্তি মগের মুল্লুক নাকি?
উত্তর: এটা অন্য অধ্যায় অন্য আলোচনা, আরেকদিনের জন্য তোলা থাকুক। জেনজিকে আপাতত ঘোরের মধ্যেই থাকতে দিন যে তারাই হাসিনাকে নামিয়েছে! 😂
উপসংহার:
রাজনীতি-অর্থনীতি-কূটনীতি সব দিক দিয়েই পাহাড়সমান চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে দেশের দায়িত্ব কাধে নিয়েছে বিএনপি। এই মেয়াদে বিএনপির সফলতা ও ব্যর্থতার উপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের আগামীর অগ্রযাত্রা।
শুভকামনা।